Friday, October 30, 2020

মুক্ত লেখনী

প্রধান ম্যেনু

সাহিত্য পত্রিকা

রুপার চোখে জল

আমিনুল ইসলাম মামুন : এই পথে প্রতিদিন সকালে অফিসে যায় আদিত্য। শান্ত চেহারার ছেলেটি সুঠাম দেহের অধিকারী। গায়ের রং উজ্জ্বল। চুলগুলো পেছনের দিকে আঁচড়ানো। পড়াশোনা শেষে চাকরিটা হয়েছে মাস ছয়েক হলো। মেসে থাকে। এক রুমে নিজে একা। বাবা-মা থাকে গ্রামে।
দোতলার বারান্দা থেকে রুপা প্রায় প্রতিদিনই প্রত্যক্ষ করে আদিত্যের যাওয়া-আসা। ভালো লাগে তার। এই ভালো লাগাটা দিন দিন বাড়তে থাকে। আদিত্যও বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে। কিন্তু সে রুপার এমন আচরণকে এড়িয়ে চলে।
রুপা ভার্সিটিতে পড়ে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তাদের অতি আদরের সে। গাড়িতে ভার্সিটি যাওয়া-আসা তার। এই বাড়িটি তাদের নিজের। আদিত্যের যখনি চোখ পড়ে রুপার দিকে, সে তখনি চোখ ফিরিয়ে নেয়। রুপা অধিকাংশ সময়ই টি-শার্ট পরা থাকে। এমন পোশাক পরিহিত অবস্থায় দৃষ্টি পড়লে তা ফেরানোটা অস্বাভাবিক। রুপা মাঝে মাঝে বিষয়টি নিয়ে ভাবে ছেলেটি তাকে অবজ্ঞা করে কেন।
দিন গড়িয়ে যায়। হঠাৎ একদিন শুক্রবার বিকেলে আদিত্যের রুমের দরজার কড়ায় কে যেন নাড়া দেয়। বিছানা থেকে ওঠে এসে দরজা খোলে আদিত্য। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। এতোদিন দেখেছে কিন্তু নাম জানে না। সঙ্গে আরেকটি মেয়ে। সে রুপার বান্ধবী। আদিত্য স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন করল, আপনি না ৩/৭ ক্ষণিকালয় ভবনে থাকেন?
: হ্যাঁ। ভেতরে আসবো?
: না আসলেই বেশি খুশি হবো।
রুপা একটা ধাক্কা খেল। চেহারা আর গায়ের রং সব মিলিয়ে সে কোন অংশেই কম নয়। তবুও কেন এমন অবজ্ঞা। খুব কষ্ট পেল রুপা। দেরি না করে বাসায় ফিরে এলো।
আদিত্যের নিজেরও বেশ খারাপ লাগছে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে একা একা ভাবছে, আমার এমনটা করা ঠিক হয়নি। কিন্তু এ ছাড়া যে আমার কিছুই করার ছিল না। আবার ভাবছে, তবুও এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ ঠিক হয়নি। তার ভেতরে খুবই অনুশোচনা কাজ করছে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। কলিং বেলটা বেজে ওঠলে রুপা এসে দরজা খোলে। আদিত্যকে দেখে অবাক হয় সে। বলল, ভেতরে আসুন। আদিত্য ভেতরে এলো। বসল ড্রইং রুমে। বলল, কেন এসেছি জিজ্ঞেস করলেন না যে?
: আমি জানি।
: জানেন?
: হ্যাঁ। বিকেলের ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। তাই ‘সরি’ বলতে এসেছেন।
কথা হলো অনেক সময়।
দিন যায়, মাস যায়। আদিত্য আর রুপার যোগাযোগ বাড়তে থাকে। রুপা সম্পর্ককে আরো কাছে আনতে চায়। বিশেষ করে সেদিন থেকে যেদিন আদিত্য রুপাকে বলেছিল রুপার টি-শার্ট পরা তার ভালো লাগে না। আদিত্য সম্পর্কটিকে রুপার মতো কাছে আনতে চায় না। সে চায় না এই শেষ বিকেলে কোন মায়ার বাঁধনে জড়াতে।
আদিত্যকে রুপার বাবা-মায়েরও পছন্দ হয়েছে। এ কথা রুপা আদিত্যকে জানায়। রুপার মুখ থেকে এ কথা শুনে আদিত্যের দু’চোখ বেয়ে দু’ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। রুপা বলে, তোমার চোখে জল কেন?
আদিত্য কৃত্রিম হাসি হেসে বলে, আনন্দ অশ্রু।

সময় গড়িয়ে যায়। আদিত্য আর রুপার মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। হঠাৎ একদিন আদিত্য রুপাকে তাদের বাসায় ড্রইং রুমে অনেক কথার পর জানায় তার সময় ফুরিয়ে এসেছে। সে ছাড়া আর কেউ জানে না তার বøাড ক্যান্সার। আজই সে প্রথম জানালো কাউকে। তার বাবা-মাও জানে না। আবেগঘন পরিবেশে আরো অনেক কথা। রুপার দু’চোখ বেয়ে ঝরতে থাকে জল।
এতোক্ষণ রুপার মা পর্দার ওপাশ থেকে কথাগুলো শুনছিলেন। কষ্টমাখা মুখাবয়ব নিয়ে তিনি এসে ওদের সামনে দাঁড়ালেন। বললেন, আজ তুমি মেসে যেওনা বাবা। আমাদের বাসায় রুম খালি আছে। তুমি থেকে যাও। রুপার বাবা এলে আমি কথা বলবো। চিকিৎসার জন্য তোমাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।
আদিত্য রাতে সেখানে থাকেনি। মেসেই চলে এসেছে।

পরদিন সকালে রুপা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আদিত্যের অফিসে যাওয়া প্রত্যক্ষ করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। সময় গড়িয়ে গেছে কিন্তু আদিত্যকে দেখা যাচ্ছে না। মাকে কিছু না বলেই সে বেরিয়ে পড়ল বাসা থেকে। সাত-আট মিনিট হাঁটার পর সে এসে পড়ল আদিত্যের মেসের সামনে। অনেক লোকের সমাগম। বুকটা তার ধ্বক্ধ্বক্ করছে, কাঁপছে হাত-পা। কাঁপাকাঁপা গলায় একজনকে জিজ্ঞেস করল, এখানে কি হয়েছে?
লোকটির কাছ থেকে রুপা জানতে পারলো আদিত্য চলে গেছে না ফেরার দেশে।
রুপা মাথার ওপর ওড়নাটা টেনে দিল। চোখে অথৈ জল। সামনে শুধুই ঝাপসা দেখছে। ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। পা নড়ছে না তার। কল্পনায় ভেসে ওঠে আদিত্যের বলা একটি কথা; টি-শার্টে তোমাকে একটুও মানায়নি। ওটা সম্ভবতঃ আমাকেই বেশি মানাবে।

 879 total views,  9 views today

অন্যরা এখন যা পড়ছেন

পুষ্পাবাদকারী

আমিনুল ইসলাম মামুন : আবাদের জন্য সুনিপুণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়াটা অত্যাবশ্যক। শীতলতা ছাড়া ভালো ফুল ফোটানো খুব একটা সম্ভব হয়বিস্তারিত পড়ুন

 901 total views,  9 views today

ব্যথা কাব্যের প্রাসাদ

ব্যথা কাব্যের প্রাসাদ আমিনুল ইসলাম মামুন ব্যথা জমিয়ে কাব্যের প্রাসাদ গড়েছি গড়তে চাইনি কখনো এ তোমার মহান কৃপা! প্রাসাদের মূলবিস্তারিত পড়ুন

 271 total views,  2 views today

বইয়ের কাছে যাই

বইয়ের কাছে যাই আমিনুল ইসলাম মামুন ফুলের সুবাস হার মেনে যায় নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মিষ্টি বাতাস দেয় দোলা দেয় বইবিস্তারিত পড়ুন

 289 total views,  2 views today

  • আমিনুল ইসলাম মামুন-এর একগুচ্ছ ছড়া…